الأربعاء، 3 مايو 2017

সততা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাঃ মুসলিম হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। নু'মান আলী খান।


সততা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাঃ মুসলিম হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। নু'মান আলী খান।
কিভাবে আমরা দায়িত্ব নিব? কিভাবে? আচ্ছা আমি জানলাম যে আমাকে দায়িত্বশীল হতে হবে কিন্তু কিভাবে হব? কিভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করব? আমি আপনাদের ১০০ টি পদক্ষেপের কথা বলব না। আমি শুধু একটি পদক্ষেপের কথা বলব। আপনি প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর আমার কাছে আসলে আমরা একসাথে লাঞ্চ করব তারপর দ্বিতীয় পদক্ষেপের কথা বলব। কিন্তু এই মুহূর্তে শুধু প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা করি। কখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত পান? কত বছর বয়সে? চল্লিশ বছর বয়সে। চল্লিশ বছর বয়সে তিনি দাওয়াত দেয়ার কাজ শুরু করেন। ঠিক? তিনি দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন।
এখন, এর পূর্বে কি তিনি মক্কায় বসবাস করছিলেন? হ্যাঁ। মানুষ কি এর পূর্বে তাঁকে চিনতেন? তারা তাঁকে কি নামে ডাকতেন? তারা তাঁকে কিছু সুন্দর নামে ডাকতেন। কি কি সুন্দর নাম ছিল সেগুলো? আস সাদিক(সত্যবাদী), আল আমিন(বিশ্বাসী)। চল্লিশ বছর বয়সের পূর্বে তিনি কি কখনো তাদেরকে ইসলামের কথা বলেছিলেন? না। তিনি তাদের সাথে ব্যবসা করেছিলেন, তিনি তাদের মাঝে বসবাস করেছিলেন, তাদের প্রতিবেশী ছিলেন, তাদের বন্ধু ছিলেন, তিনি তাদের সাথে খাবার খেয়েছিলেন, ঠিক? তিনি তাদের সাথে কথা বলতেন প্রতিদিন, তিনি তাদেরকে সাহায্য করতেন, দান-খয়রাত করতেন, তিনি তাদের সাথে এমন আচরণ করতেন। চল্লিশ বছর ধরে তারা শুধু আস সাদিক এবং আল আমিনকে চিনতো। তারা জানত যে, আমাদের গোটা সমাজে একজন মানুষই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ববান। কে ছিলেন তিনি? মুহাম্মাদ। তারা এখনো তাঁকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতো না।
এখন এটাই আপনার প্রথম পদক্ষেপ। উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে আমার আপনার দায়িত্ব হল আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র প্রদর্শন করতে হবে সমগ্র বিশ্বকে, আর তা হল আস সাদিক এবং আল আমিন। তাই যখন তারা একজন মুসলিম সম্পর্কে চিন্তা করবে তারা একজন সৎ মানুষ সম্পর্কে চিন্তা করবে, যখন তারা একজন মুসলিম সম্পর্কে চিন্তা করবে তারা এমন একজন সম্পর্কে চিন্তা করবে যাকে তারা বিশ্বাস করতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এত খারাপ যে আমরা নিজেরাই একে অন্যকে বিশ্বাস করতে পারি না। এমনকি আমরা নিজেরাই একে অন্যকে বিশ্বাস করতে পারি না। আমরা মিথ্যা বলি, আমরা প্রতারণা করি। আমরা ব্যবসার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলি এবং ঠকাই, আমরা আমাদের পরিবারে মিথ্যা বলি এবং প্রতারণা করি। আমরা উত্তরাধিকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলি এবং প্রতারণা করি। আমরা আমাদের কাজের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলি এবং প্রতারণা করি। আমরা আমাদের ট্যাক্স ফর্ম পূরণ করার সময় মিথ্যা বলি এবং ফাঁকি দেই। সুযোগ পেলেই আমরা মিথ্যা বলি এবং প্রতারণা করি।
উদাহরণস্বরূপ যে লোক কাপড়ের দোকানে কাজ করে- যেখানে মহিলারা কাপড় কিনতে আসে- সে বলে, আমাকে এটা ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হবে কারণ আমি এটা ৯৯ টাকা দিয়ে কিনেছি। আমি শুধু এক টাকা লাভ করবো। সে কিনেছে এটা দশ টাকা দিয়ে, কিন্তু তাকে একটা গল্প সাজাতে হবে যেন সে এটা ৯৯ টাকায় বিক্রি করতে পারে। "শুধু আপনার জন্য এটা ৯৯ টাকা।" এভাবে সে পুরো গল্প সাজায়। আমরা মিথ্যা বলা ছাড়া এমনকি কিছু বিক্রিও করতে পারি না। কিভাবে আমরা সমগ্র বিশ্বের জন্য "সত্যবাদী এবং বিশ্বাসী" হব? আমরা এমনকি নিজেরা একে অন্যকে "সত্যবাদী এবং বিশ্বাসী" মনে করি না! আমরা নিজেরা একে অন্যকে আস সাদিক এবং আল আমিন মনে করি না।
আপনি যদি মুসলিম বিশ্বের কোথাও যান - এখানে না অন্য কোথাও - আর আপনি একটি ট্যাক্সি ভাড়া নেন, তারা যদি বুঝতে পারে আমি আমেরিকা থেকে এসেছি তাহলে তিনগুণ দাম বেশি চাইবে। কেন? এভাবে কি আমানাত রক্ষা হল? আপনি যদি কোন মুসলিম ম্যাকানিকের কাছে যান আর বলেন - মুসলিম ম্যাকানিক, মাসাআল্লাহ - আমার গাড়ির তেল দরকার। সে আপনার গাড়ি খুলবে ট্রান্সমিশন টা বের করবে আর বলবে, আপনার নতুন ট্রান্সমিশনও লাগবে। আমি গাড়ির এসব ব্যাপার বুঝি না, সে বুঝে। এভাবে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষকে ঠকাই, মিথ্যা বলি, আমরা মানুষের কাছে অসৎ। তারপর আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীন নিয়ে কথা বলি, ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কথা বলি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরিয়ত নিয়ে কথা বলি - থামুন, এক সেকেন্ডের জন্য থামুন। আগে চল্লিশ বছরের জীবন। প্রথম পদক্ষেপ আগে। আমাদেরকে কেউ এখন সৎ মনে করে না। এই মুহূর্তে কেউ আমাদের বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এটাই আমাদের প্রায়োরিটি। তাহলেই কেবল ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে যৌক্তিক মনে হবে।
কারণ আপনার মুখ খোলার আগেই তারা আপনাকে ভালবাসে। তারা আপনাকে ভালবাসে। এই লোক কখনো মিথ্যা বলে না। আমি যে কারো উপর তাকে বিশ্বাস করতে পারি। একজন মুসলিমের এমনিতো হওয়ার কথা। আপনাদের অনেক সহকর্মী হিন্দু, এই দেশে আপনাদের অনেক সহকর্মী খ্রিস্টান, আপনাদের অনেক সহকর্মী বৌদ্ধ অথবা নাস্তিক বা অজ্ঞেয়বাদী।
ইসলাম সম্পর্কে একমাত্র যে জিনিস তারা জানে তা কুরআন থেকে নয় - তারা কুরআন জানে না- ইসলাম বলতে তারা শুধু আপনাকেই চিনে। আপনিই তাদের নিকট ইসলাম। আপনিই তাদের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দূত। তাই যখন আপনি আপনার সহকর্মীকে বলেন আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি। আমি সুন্নি পাঁচ মিনিটের কথা জানি। পাঁচ মিনিট মানে আজকে কোন এক সময়। আর সবচেয়ে সেরাটা হল, আপনি এখনো বাসা থেকেই বের হননি তারা ফোন করে আর জিজ্ঞেস করে কোথায় আপনি? "ওহ আমি রাস্তায়।" আপনি রাস্তায় না। আপনি এখনো দাঁতও ব্রাশ করেন নি। আপনি তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থান করছেন। কেউ ফোন করে বলে, ভাই ভাই আপনি কি আসছেন? আপনি জবাব দেন - এই দশ মিনিটের মধ্যে। তিন ঘণ্টার জায়গায় দশ মিনিট! আরে ভাই আপনি তো হেলিকপ্টারে চড়ে আসছেন না। আপনি গাড়িতে। সততা অবলম্বন করুণ। ছোট ছোট বিষয়ে যদি আমরা সৎ হতে না পারি, তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় বড় বড় বিষয়ে আমরা সৎ হতে পারবো না।