السبت، 19 سبتمبر 2026

~ আজ চূড়ান্ত ভারসাম্যের দিন ~

 Bookish Publisher

 
~ আজ চূড়ান্ত ভারসাম্যের দিন ~
এরপর আল্লাহ বলছেন,
فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَآءُ
﴾যেদিন পুরো আকাশটি ছিঁড়ে ফেটে যাবে! ﴿
فَكَانَتْ وَرْدَةً
﴾এরপর তা রক্ত লাল হয়ে যাবে﴿
كَالدِّهَانِ
﴾ঠিক যেমন তাজা পশুর চামড়া ছেলার পর হয়।﴿ [আর-রাহমান : ৩৭]
আল্লাহ মূলত এই আয়াতে কী বলতে চাচ্ছেন?
মহিলারা রান্না করেন। কোনোকিছু ভাজি করার সময় কড়াই থেকে তেল ছিটকে পড়লে গাঢ় বাদামি একটা দাগ বসে যায়—এটাই ❛দিহান❜ (دِهَان)। সেই রঙটি। একদম তাজা রক্তের দাগের মতো। অথবা কোনো পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় মাংসের যে তাজা রক্তাভ লাল রঙ দেখা যায়—সেটার মতো। মূলত আল্লাহ ﷻ এখানে আকাশকে সেই দৃশ্যের সাথে তুলনা করছেন—যেভাবে কসাই ছাগল জবাইয়ের পর চামড়া চিরে ফেলে, কিয়ামতের দিন আকাশের সাথে ঠিক তেমনটিই করা হবে। এই দৃশ্যটি আল্লাহ বর্ণনা করছেন।
فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَآءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ * فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
আল্লাহ যদি আকাশের সাথেই এমনটা করেন, তবে তিনি পৃথিবীর সাথে কী করতে পারেন বলে মনে করেন? সুবহানআল্লাহ! মনে পড়ে শুরুতে আল্লাহ কী বলেছিলেন?
وَالسَّمَآءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ
আকাশকে একমাত্র তিনিই উপরে তুলে ধরেছেন। উঁচু করেছেন। তারপর একে ভারসামপূর্ণ করেছেন। এরপর তিনি মানুষকে ভারসাম্যপূর্ণ হতে বলেছেন।
এই বিষয়টি বুঝতে হবে। মানবজাতিকে ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই সুযোগ ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ আর জমিনে ভারসাম্য থাকবে। এরপর একদিন আসমান ও জমিনের ভারসাম্য হারিয়ে যাবে (কিয়ামতের জন্য ধ্বংস হবার মাধ্যমে)। সেদিন আল্লাহ মানবজাতির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত করবেন। এই মুহূর্তে মানবজাতির সুযোগ আছে, সেদিন মানুষের কোনো সুযোগ থাকবে না। সেদিন আল্লাহ স্বয়ং তাদের উপর ভারসাম্য চাপিয়ে দেবেন। যত জুলুম তারা করেছে সব ঠিক করা হবে।
যেহেতু আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির মাঝে ভারসাম্য থাকতেই হবে, তাই যদি বর্তমানে মানুষের মধ্যে ভারসাম্য না-ও থাকে, একদিন তাদেরকে এমন অবস্থায় রাখা হবে যখন তারা অবশেষে ভারসাম্যপূর্ণ হবেই। তাদেরকে সমস্ত পাপ ও অপরাধের খেসারত দিতে হবে। যত যাকিছুই হোক না কেন।
فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْـَٔلُ عَن ذَنۢبِهِۦٓ إِنسٌ وَلَا جَآنٌّ
কি অদ্ভুত আয়াত! আল্লাহ বলছেন—
﴾সেদিন কাউকেই না, কোনো মানুষ কিংবা কোনো জ্বীনকেই তাদের পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না।﴿ [আর-রাহমান : ৩৯]
কী! আমি-তো ভেবেছিলাম বিচারদিনে সবার জিজ্ঞাসাবাদ হবে! কিন্তু এখন আল্লাহ বলছেন কাউকে জিজ্ঞাসা করা হবে না!
এটা বিচারদিনের শুরুর দৃশ্য। বিচারদিনের শুরুতে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার নেই। বলছি এটার সুবিধা কী। সামনের আয়াতে এটা আসবে তবে একটু সংক্ষিপ্ত দৃশ্য উপস্থাপন করছি।
আমি যেহেতু শিক্ষক, তাই ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নেই। পরীক্ষার খাতা চেক করি। কেউ কেউ ১০০ পায়। কেউ পায় ৬০। কেউ-বা পায় ২০। আমি যদি ভালো পাকিস্তানি শিক্ষক হই তবে খাতা দেবার সময় ছাত্রদের নাম ধরে ডাকি। তারা কাছে আসে, তাদের খাতা হাতে দেই। তো কেউ যদি ভালো নম্বর পায় তবে খাতা সামনে ধরে ধরে দেখিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু যদি কম মার্কস পায়, তার হাতে খাতা দিলে সে ওটা মুড়িয়ে লুকিয়ে ফেলে।
পরীক্ষার হলে নাম ডাকার আগেই বোঝা যায় কে কম নম্বর পেয়েছে। তারা আগে থেকেই জানে অবস্থা বেশ বেগতিক। তাই জিজ্ঞেস করতে হয় না, খাতাও দেখতে হয় না—শুধু চেহারা দেখলেই বোঝা যায়। চোখ থেকে যেন পানি ঝরে পড়বে। ইতিমধ্যেই হেরে গেছে।
আল্লাহ ﷻ বলছেন, সেদিনও প্রশ্ন করতে হবে না। যারা অন্যায় করেছে, তাদের চেহারা দেখেই চেনা যাবে। পরের আয়াতে সেটাই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ* يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمٰهُمْ
﴾অপরাধীরা শনাক্ত হবে তাদের কপালের মাধ্যমে। তাদের মুখের অবস্থা দেখে।﴿ [আর-রাহমান : ৪১]
بِسِيمٰهُمْ
—চেহারার আলামত। কিন্তু এরপরই তিনি ভয়ানক কিছু বলেন,
فَيُؤْخَذُ بِالنَّوٰصِى وَالْأَقْدَامِ
﴾আর তাদের মাথার সামনের চুলের ঝুটি ও পা ধরে পাকড়াও করা হবে। ﴿
তো কিছু ফেরেশতা আপনার মাথা ধরেছে আর কিছু ফেরেশতা পা।
আরবরা সেই সময়ে এই দৃশ্যের সাথে পরিচিত ছিল। পশু জবাইয়ের পর তারা সেটাকে ছোট ছোট করে কেটে রান্না করত না—পুরো পশুটাকে মাথা ও পা বেঁধে ঝুলিয়ে আগুনের উপর ঘোরাত। অনেকটা বারবিকিউয়ের মতো, তবে পুরোটা। আর পশুকে মাথা ও পা দিয়ে ধরা হয় কেবল জবাইয়ের সময়। আল্লাহ ﷻ বলছেন, তোমাদের সাথেও সেদিন ঠিক এভাবেই আচরণ করা হবে—পশুর মতো।
সূরার শুরুতে আল্লাহ ﷻ মানুষকে কী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন মনে আছে? মানুষ হিসেবে। কিন্তু তুমি শুনতে চাওনি—বলেছ, দেখলে তবেই বিশ্বাস করব। আর শুধু দেখার পরই বিশ্বাস করে কারা? পশুরা। তাই বিচারদিনে আল্লাহ ﷻ বলছেন, তোমরা পশুর মতো আচরণ চেয়েছিলে—নাও এবার বোঝো, তোমাদের সাথে পশুদের মতোই আচরণ করা হবে।
فَيُؤْخَذُ بِالنَّوٰصِى وَالْأَقْدَامِ
আর অবশ্যই যখন পশুকে এভাবে ধরা হবে তখন এরপর কী হয়? তাকে আগুনের তাপ দিয়ে রোস্ট করা হয়।
বই : সূরা আর-রাহমানের গভীরে
মূল : উস্তাদ নোমান আলী খান
"সূরা আর-রাহমানের গভীরে" বইটি নিয়ে মোহাম্মাদ নয়ন মিয়া ভাই বলেন,
"ভয় ও দুঃখ, আল্লাহর ভালবাসা৷ অসম্ভব ভাল লাগা ও মুগ্ধতা ছড়িয়ে আছে বইটির প্রতিটি পাতায়, আলহামদুলিল্লাহ৷"
উস্তাদের "সূরা আর-রাহমানের গভীরে" বইটিতে আল্লাহর কালামের এক বিস্ময়কর সুশৃংখলা ও ধারাবাহিকতা আবিষ্কার করবেন। আল-কুরআন একইসাথে হেদায়াত ও ধারাবাহিক বর্ণনা দিক থেকে কতটা বিস্ময়কর, সেটা দেখতে পারবেন সূরা আর-রাহমানের তাদাব্বুরে। "নাযম আল-কুরআন" বা কুরআনের সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতা যে কুরআনের এক বিস্ময়, সেটা এক বিস্ময় নিয়ে হাজির হবে বইটির গভীর প্রজ্ঞার সাথে।
তাদাব্বুর ও তাফসির আল্লাহর কালামকে আরো গভীরভাবে বোঝার জন্য ব্যাখ্যা। কুরআন মাজিদ আমাদের হেদায়াতের প্রধান উৎস। তাই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে যেমন কুরআন গভীরভাবে বোঝা দরকার তেমনি হেদাতের আলো বুঝতেও আল্লাহর কালামের তাদাব্বুরের বুঝ দরকার। সেজন্য আমাদের এই বইগুলো সংগ্রহ করতে পারেন।
১। সূরা আর-রাহমানের গভীরে : উস্তাদ নোমান আলী খান
২। বিস্ময়কর ফাতিহা : উস্তাদ নোমান আলী খান
৩। উপমার শৈল্পিকতায় মুগ্ধময় কুরআন : উস্তাদ নোমান আলী খান
৪। তাফসির সূরা আসর : উস্তাদ নোমান আলী খান
৫। আমি ও আমার রব : উস্তাদ নোমান আলী খান
৬। আমার জীবনে আল-ফাতিহা : ইমাম মুতওয়াল্লী আল-শারাওয়ী (রাহ)

ليست هناك تعليقات:

إرسال تعليق