الأحد، 16 أغسطس 2026

বড় কোনো পাপ করে ফেলেছেন? তবুও আজ রাতে তাহাজ্জুদে দাঁড়ান

 Nouman Ali Khan Collection In Bangla

বড় কোনো পাপ করে ফেলেছেন? তবুও আজ রাতে তাহাজ্জুদে দাঁড়ান

শিরোনামটা পড়ে চমকে উঠলেন? একটু দাঁড়ান। কথাটা আমার নয়—এর পেছনে আছে কুরআনের একটি আয়াত, একটি অসাধারণ হাদীস, আর আমাদের পূর্বসূরিদের এক বিস্ময়কর জীবনকাহিনি।

আগে শয়তানের একটা চাল চিনে নিন। কোনো পাপ করে ফেলার পর সে এসে কানে কানে বলে—"ও, তুমি? তুমি মসজিদে নিয়মিত হবে, অথচ গোপনে এই কাজ করো? দান-সদকা করতে যাচ্ছ? এসব করার তুমি কে? হারামের পেছনে টাকা ওড়াও, আর এখন ভাবছ আল্লাহ তোমার দানের টাকা কবুল করবেন?"

আর আমরা? লজ্জায় গুটিয়ে যাই। অপরাধবোধে ডুবে যাই। ধীরে ধীরে ভালো কাজ থেকে সরে আসি, মানুষের কাছ থেকে সরে আসি, মসজিদ থেকে সরে আসি। মনে মনে ভাবি—"আমি তো পাপী মানুষ, আমার আর ভালো কাজ করে কী লাভ। আমি এসবের যোগ্যই নই।"

লক্ষ করুন—এটাই শয়তানের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগুলোর একটা। অথচ ভেবে দেখলে, এটাই তার সবচেয়ে দুর্বল চাল। কারণ যুক্তিটা পুরোপুরি উল্টো।

ওহে পাপী! নেক আমল তো তোমারই বেশি প্রয়োজন—নেককার মানুষটার চেয়েও বেশি। মুত্তাকির চেয়ে আল্লাহর ক্ষমা তো তোমারই বেশি দরকার। যে দরজা দিয়ে ক্ষমা আসে, সেই দরজা তো তোমার জন্যই সবচেয়ে জরুরি। তাহলে সেই দরজাটাই বন্ধ করে দিচ্ছ কেন? মনে রেখো, জাহান্নামের শাস্তি এমন কিছু নয় যা তুমি নিজের জন্য মেনে নিতে পারো। আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত অত্যন্ত কঠোর। তাই, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর ক্ষমা তোমারই তো বেশি দরকার।

একটা ঘটনা শুনুন। এক ব্যক্তি এক নারীর সাথে এমন কিছু করে ফেলেছিল (বড় জিনা নয়) , যা করা উচিত ছিল না। অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে সে মসজিদে এলো, রাসুল (স)-এর পেছনে নামাজ পড়লো। তারপর বললো—ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এমন কাজ করে ফেলেছি যা করা উচিত হয়নি। আল্লাহ এর জন্য যে শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, আমার উপর তা কার্যকর করুন।

রাসুল (স) কী করলেন? এক বর্ণনায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন—"তুমি কি অজু করে হেঁটে মসজিদে আসোনি? তুমি কি আমাদের সাথে জামাতে নামাজ পড়োনি?" লোকটি বললো—"হ্যাঁ।" তখন তিনি বললেন—তুমি কি জানো না, আল্লাহ কুরআনে কী বলেছেন?

اِنَّ الۡحَسَنٰتِ یُذۡهِبۡنَ السَّیِّاٰتِ

"নিশ্চয় ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়।" (সূরা হূদ, ১১:১১৪)

ভাবুন তো। লোকটা পাপ করেছে, তারপর অনুতপ্ত হয়েছে, অপরাধবোধ বুকে নিয়ে এতটা পথ হেঁটে মসজিদে এসেছে, তাওবাকারীর অন্তর নিয়ে নামাজে দাঁড়িয়েছে। আর সেই নামাজই তার পাপ মুছে দিলো। পাপ তাকে মসজিদ থেকে দূরে ঠেলে দেয়নি—বরং মসজিদের দিকেই ঠেলে দিয়েছে।

তাহলে করণীয়টা এবার স্পষ্ট। কোনো আসক্তির সাথে লড়ছেন? বারবার পা পিছলে যাচ্ছে? তাহলে সেই ব্যর্থতার যন্ত্রণাটাকেই জ্বালানি বানান। একজন নয়—দশজন এতিমের দায়িত্ব নিয়ে নিন। সামর্থ্য থাকলে উমরায় যান, আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করুন। তাহাজ্জুদে দাঁড়ান—এমনকি যেদিন পাপটা করে ফেলেছেন, সেদিন রাতেও। কারণ আপনি তো জানেনই—আপনি পাপী। আল্লাহর ক্ষমা আপনার লাগবেই। সেই হতাশা, সেই অপরাধবোধ—সবটুকু নিন, আর সেটাকে এমন কিছু ভালো কাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বানিয়ে নিন, যা আপনি অন্যথায় করতেন না।

শুনতে অদ্ভুত লাগছে? অথচ এটা খুবই সম্ভব যে, যে পাপ থেকে আপনি তাওবা করছেন, সেই পাপই আপনাকে আরও উত্তম এক মানুষে পরিণত করবে।

প্রমাণ চান? ফুদাইল ইবন ইয়াদ (র)-এর নাম শুনেছেন? ইতিহাস তাঁকে চেনে একজন মহান আলেম, যাহেদ ও আবেদ হিসেবে। অথচ জীবনের প্রথম অধ্যায়ে তিনি ছিলেন রাজপথের ডাকাত—রীতিমতো ভয়ংকর দুর্বৃত্ত। তারপর একদিন তাওবা করলেন—খাঁটি, আন্তরিক তাওবা। আর বাকি জীবন ধরে সেই অনুশোচনাটাকেই তিনি তাকওয়াপূর্ণ জীবনের রসদে পরিণত করলেন। আজ তাঁর নাম শুনলে কারো মনে ডাকাতির বছরগুলোর কথা ভাসে না—ভাসে শুধু সেই আলেমের ছবি।

"ইবনুল কাইয়্যিম (র) বলেছেন—এটা সম্ভব যে পাপীর পাপই তাকে তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করতে পারে; কেননা সেই পাপ একজন খোদাভীরু মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করে।"

তাহলে সারকথা মনে রাখুন: পাপ করে ফেলা এক জিনিস, আর সেই পাপকে ভালো কাজের দরজা বন্ধ করতে দেওয়া সম্পূর্ণ আরেক জিনিস। প্রথমটা মানুষের দুর্বলতা; দ্বিতীয়টা শয়তানের জয়। যখনই সে ফিসফিস করে বলবে—"তুমি এসবের যোগ্য নও"—তাকে উল্টো জবাব দিন: "আমি পাপী বলেই তো নেক আমল আমার সবচেয়ে বেশি দরকার।" নামাজে দাঁড়ান, দান বাড়িয়ে দিন, নিভৃতে ক্ষমা চাইতেই থাকুন। কারণ ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়—এই ওয়াদা স্বয়ং আল্লাহর।

হে আল্লাহ! আমাদের পাপগুলোকে আপনার দিকে ফিরে আসার সিঁড়ি বানিয়ে দিন। আমাদের অনুশোচনাকে নেক আমলের জ্বালানিতে পরিণত করুন, আর আমাদের এমন খাঁটি তাওবা নসিব করুন—যে অবস্থায় আপনার সাথে সাক্ষাৎ করলে আপনি খুশি হবেন। আমীন।

—ইয়াসির কাদীর আলোচনা অবলম্বনে

— "আসক্তি জয়ের ৭টি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ" খুতবা অবলম্বনে



5
❤️

ليست هناك تعليقات:

إرسال تعليق